স্বর্ণের ডিজিটাল রূপান্তর করতে যাচ্ছে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (ডব্লিউজিসি)। লন্ডনের প্রায় ৯০ হাজার কোটি ডলারের স্বর্ণের বাজারে আধুনিকতার ছোঁয়া আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। এর উদ্দেশ্য লেনদেন, নিষ্পত্তি ও জামানত হিসেবে ব্যবহারের জন্য মূল্যবান এ ধাতুর নতুন ডিজিটাল সংস্করণ তৈরি করা। নতুন এ ডিজিটাল ইউনিটটির নাম দেয়া হয়েছে 'পুলড গোল্ড ইন্টারেস্টস' (পিজিআই)। আগামী বছরের প্রথম তিন মাসে লন্ডনে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এর পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হবে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী ডেভিড টেইট বলেন, বর্তমানে অনেক ব্যাংক ও বিনিয়োগকারীর কাছে স্বর্ণ মজুদ সম্পদ হিসেবে গচ্ছিত থাকে, যা থেকে কোনো আয় হয় না। স্বর্ণের ডিজিটাল রূপান্তর করা হলে একে লাভজনক কাজে লাগানো যাবে। উদাহরণস্বরূপ, এটি মার্জিন কল পূরণে বা জামানত হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এ পরিবর্তনের ফলে সম্পদ ব্যবস্থাপক ও ব্যাংকগুলো ধাতুটিকে এখনকার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর ও লাভজনক সম্পদ হিসেবে দেখতে শুরু করবে।
যদিও গতকাল স্বর্ণের দাম রেকর্ড আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৫০০ ডলার অতিক্রম করে, তবুও কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, এটি ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো ডিজিটাল সম্পদের বিপরীতে আকর্ষণ হারাচ্ছে। এ কারণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ডব্লিউজিসি। তবে বাস্তবায়নের পথে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বর্ণের বাজারের যে ঐতিহ্যগত দিক রয়েছে সেখানে পরিবর্তন আনা হলে সংশ্লিষ্টরা সহজে তা গ্রহণ নাও করতে পারে। ডিজিটাল রূপান্তর কতটা প্রয়োজন সে বিষয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলছেন।
অতীতে স্বর্ণ-সমর্থিত ডিজিটাল মুদ্রা তৈরির অনেক উদ্যোগই সফল হয়নি। বর্তমানে টিথার গোল্ড ও প্যাক্স গোল্ডের মতো কয়েকটি সফল উদ্যোগ থাকলেও সেগুলোর বাজার খুবই ছোট। অন্যদিকে, শুধু স্বর্ণ-সমর্থিত এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) ৪০ হাজার কোটি ডলারের বেশি সম্পদ রয়েছে।